কোয়ান্টামম
প্রশান্তি ও নিরাময়ের এক মিলনভূমির নাম কোয়ান্টামম। পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবানে গড়ে উঠেছে প্রকৃতি আর আধুনিকতার মিশেলে চমৎকার এই প্রশান্তি নিবাস। নগরজীবনের কোলাহল থেকে মুক্ত হয়ে নিজেকে নতুনভাবে খুঁজে পেতে চাইলে কোয়ান্টামমে আপনাকে স্বাগতম।
কোয়ান্টাম মমতার সংক্ষিপ্ত রূপ হলো কোয়ান্টামম। কোয়ান্টাম স্বপ্ন দেখে এক মানবিক মহাসমাজের। যেখানে প্রত্যেকের অন্য-বস্ত্র-শিক্ষা-স্বাস্থ্য-বাসস্থান হবে নিশ্চিত। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-অঞ্চল নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের স্বাধীন আত্মবিকাশের অধিকার যেখানে থাকবে সুরক্ষিত। আর বিশ্বাস করে কোয়ান্টামম থেকেই সূচিত হবে এ মনছবির বাস্তব অভিযাত্রা। তাই এ নামকরণ।
সৃষ্টির শুরু থেকেই যে মানুষ ছিলো প্রকৃতির পরিপূরক, নগর সভ্যতার দাপটে সে মানুষ যখন একেবারে প্রকৃতিবর্জিত হয়ে গেলো তখন থেকেই শুরু হলো তার অশান্তি, অসুখ। তাই নগরজীবনের যান্ত্রিকতা ও কোলাহল থেকে মুক্ত হয়ে আধুনিক মানুষকে নির্জন প্রকৃতির মাঝে আত্মিক সাধনায় উদ্বুদ্ধ করার জন্যেই আমাদের এ উদ্যোগ।
পাশাপাশি চলছে বঞ্চিত জনপদে সভ্যতার আলোকবর্তিকা পৌঁছে দেয়ার প্রয়াস। পরিচালিত হচ্ছে শিক্ষাসুবিধাবঞ্চিত শিশুদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার সুদূরপ্রসারি কর্মকাণ্ড।
চটজলদি জেনে নিন
-
লামা কোয়ান্টামমে ভ্রমণের উদ্দেশ্য কী?
আসলে কোয়ান্টামম স্রেফ আনন্দ ভ্রমণের কোনো রিসর্ট নয়, নয় কোনো থিম পার্ক বা এমিউজমেন্ট পার্ক। এখানে প্রকৃতি আর আধুনিকতার মিশেলে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে এক আলোকিত জনপদ। এ আলোকায়নের প্রক্রিয়া যারা স্বচক্ষে দেখতে চান তাদের জন্যেই লামা ভ্রমণ। কিংবা যারা কয়েকদিনের জন্যে ধ্যানের গভীরে নিমগ্ন হতে চান তাদের জন্যে লামা ভ্রমণ।
কোয়ান্টামম ভ্রমণে যেতে চাইলে আমাকে কী করতে হবে?
-
শুধু কি কোয়ান্টাম গ্রাজুয়েটরাই লামায় যেতে পারবে?
২ দিনব্যাপী কোয়ান্টাম সাফারিতে একজন এসোসিয়েটও (ননগ্রাজুয়েট) যেতে পারেন। তবে তাকে অবশ্যই ফাউন্ডেশনের পূর্বানুমতি নিয়ে নিতে হবে। একজন গ্রাজয়েট সাথে থাকলে বা তার রেফারেন্স থাকলে তিনি অগ্রাধিকার পাবেন। আর লামা কোয়ান্টায়নে যেতে হলে তাকে অবশ্যই একজন কোয়ান্টাম গ্রাজুয়েট বা প্রোমাস্টার হতে হবে।
-
কোন সময়টা লামা ভ্রমণের জন্যে উপযুক্ত?
সাধারণভাবে অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়টা লামা ভ্রমণের জন্যে আদর্শ। কারণ পাবর্ত্য এলাকা হওয়ার কারণে এখানকার আবহাওয়া কিছুটা চরমভাবাপন্ন। গ্রীষ্মের গরম তাই সময় সময় বেশ কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। তবে বর্ষা বা শরতের লামাও এক অন্যরকম সৌন্দর্য। ঘন সবুজ, নিবিঢ় বর্ষা কিংবা মেঘ দেখতে চাইলে বেছে নিতে পারেন সেপ্টেম্বর সময়টাকেও।
-
লামা ভ্রমণের ফি কত?
কোয়ান্টাম সাফারিতে যেতে চাইলে সাধারণ ২,২০০ টাকা। এবং ছাত্রদের জন্যে ২,০০০ টাকা। আর লামা কোয়ান্টায়নে যেতে চাইলে সাধারণ ২,০০০ টাকা। ছাত্র-ছাত্রী ১,৬০০ টাকা।
-
লামায় গেলে আমরা থাকবো কোথায়?
ধ্যানযাত্রীদের থাকার জন্যে লামায় রয়েছে বেশ কয়েকটি বাংলো ও সেমিপাকা ভবন। আধূনিক টয়লেট, জেনারেটর ও সোলারের বিদ্যুৎসহ স্বচ্ছন্দ বসবাসের সব উপকরণই এসব ঘরগুলোতে আছে। বাড়তি পাওনা হলো পাহাড়ের গায়ে কিংবা জঙ্গলের পাশে বাস করার এডভেঞ্চারের অনুভুতি।
-
প্রাইভেট কার নিয়ে কি কোয়ান্টামম পর্যন্ত যাওয়া যাবে?
প্রাইভেট কার নিয়ে যাওয়া যাবে। তবে মার্চ - সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টি এবং পাহাড়ে ভূমিধ্বসের কারণে এ সময়টায় কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ।
-
ছবি তোলা যাবে?
নির্দিষ্ট কিছু সময় ও স্থাপনা ছাড়া বাকি সময় ছবি তোলার সুযোগ রয়েছে। তবে গুরুজী শহীদ আল বোখারী, মা-জী নাহার আল বোখারীর ছবি তোলার আগে অবশ্যই তাদের অনুমতি নিতে হবে। ছেলেরা মেয়েদের ছবি ও মেয়েরা ছেলেদের ছবি তোলার আগে অবশ্যই অনুমতি নিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই গোসলের ছবি তোলা যাবে না।
-
লামায় গেলে কি আমি মেডিটেশন করার সুযোগ পাবো?
কোয়ান্টামম একটি ধ্যানকেন্দ্র। ধ্যানের জন্যে এখানে ধ্যানঘর ছাড়াও রয়েছে বেশকটি ধ্যানমঞ্চ। এছাড়া উন্মুক্ত প্রকৃতি তো রয়েছেই যেখানে আপনি অনাবিল আনন্দে হারিয়ে যেতে পারবেন ধ্যানের গভীরে।
আপনি যদি একজন কোয়ান্টাম গ্রাজুয়েট হন তাহলে কোয়ান্টামম ভ্রমণের জন্যে আপনার জন্যে আছে বেশ কটি সুযোগ। যেমন, প্রতিমাসেই অনুষ্ঠিত হয় ২ দিনব্যাপী কোয়ান্টাম সাফারি। এটি মূলত আনন্দ ভ্রমণের আয়োজন। এটিতে যেতে পারেন। অনুমতি নিয়ে আপনার ননগ্রাজুয়েট আত্মীয় বা বন্ধুকেও নিতে পারেন। এছাড়া ধ্যান ও মৌনসাধনার বিশেষ আয়োজন লামা কোয়ান্টায়ন। ৩ দিনের এ কার্যক্রমটি অনুষ্ঠিত হয় কোয়ান্টাম গ্রাজুয়েট ও প্রো-মাস্টারদের জন্যে আলাদা আলাদাভাবে। এটিও প্রতিমাসেই আয়োজিত হয়। এখানে যেতে হলে আপনাকে অবশ্যই একজন কোয়ান্টাম গ্রাজুয়েট বা প্রো-মাস্টার হতে হবে।


