স্টেরয়েডের মতো এলার্জির ওষুধ আমাকে মোটা করে তুলছিলো। একসময় ওজন হলো ১২০ কেজি। ডায়েট চার্ট মেনে ১৫/১৬ কেজি কমালাম। কিন্তু এরপর আর কমছিলো না। জিমের মেশিনে ব্যায়াম করলে প্
ব্যায়াম করুন
কোয়ান্টাম ব্যায়াম বুদ্ধিমানদের ব্যায়াম। পরিশ্রম কম, উপকার বেশি, ফলাফল বহুমুখী। সাধারণ ব্যায়াম ও পাশ্চাত্যের ব্যায়াম শুধু পেশিশক্তি বাড়ায়। কোয়ান্টাম ব্যায়াম পেশিশক্তিকে সংহত করার পাশাপাশি হরমোনের প্রবাহ সুষম, নিরাময় শক্তিকে বেগবান, মনকে তরতাজা আর শরীরকে করে মনোদৈহিক রোগমুক্ত। ১৯৮৩ সাল থেকে দেশে শুরু হয় কোয়ান্টাম ব্যায়ামের ওরিয়েন্টশেন মা-জী নাহার আল বোখারীর তত্ত্বাবধানে। তারপর ২৮ বছর। অগণিত নারী-পুরুষ এ ব্যায়ামের চর্চা করে উপকৃত হয়েছেন।
কোয়ান্টাম ব্যায়াম কেন?
মেডিটেশন মনকে ভালো রাখে। প্রশান্ত আনন্দময়তা এনে দেয়। রোগ-ব্যাধি মুক্তির প্রক্রিয়া সক্রিয় করে তোলে। কিন্তু সত্যিকার সু-স্বাস্থ্যের স্বাদ পেতে হলে প্রয়োজন নিয়মিত ব্যায়াম। এ উপলব্ধি থেকেই হাজার বছর ধরে আমাদের সাধকরা ব্যায়াম চর্চা করে আসছেন।
বিংশ শতাব্দীতে এসে ব্যায়াম পরিণত হয়েছে আধুনিক মানুষের দেহ-মন সুস্থ রাখার এক আন্দোলনে। আর এ ব্যায়ামের মধ্যে সেরা হচ্ছে কোয়ান্টাম ব্যায়াম যা যোগ ব্যায়ামেরই সহজ ও আধুনিক সংস্করণ।
কিছু সাধারণ প্রশ্ন
-
যে কেউই কি কোয়ান্টাম ব্যায়াম করতে পারে?
নারী-পুরুষ, শিশু-যুবক-বৃদ্ধ নির্বিশেষে যে কেউই কোয়ান্টাম ব্যায়াম করতে পারে। দিনে ২০/২৫ মিনিট কোয়ান্টাম ব্যায়াম করুন। শুরু করুন উজ্জীবন দিয়ে। শেষ করুন শবাসনে শিথিলায়ন করে। আপনি সুস্থ ও প্রাণবন্ত থাকবেন। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে কমপক্ষে ১০/১২টি আসন করুন। পূর্ণ আহারের ৩/৪ ঘণ্টা পরে ব্যায়াম করুন।
-
কীভাবে বুঝবো কোন আসনটি আমার জন্য বেশি উপযোগী?
কোয়ান্টাম ব্যায়াম খুব সহজ এবং এর সবগুলো আসনই সবার জন্য উপকারী। তবে কিছু শারীরিক জটিলতা যেমন- স্পন্ডিলাইটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ যেসব রোগের কারণে সামনে ঝোঁকা নিষেধ সেসব ক্ষেত্রে কিছু আসন চর্চা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কোয়ান্টাম ব্যায়াম ও সৌন্দর্যচর্চা’ বইটি পড়ে আপনি এ ব্যাপারে আরো জানতে পারেন।
-
কোয়ান্টাম ব্যায়াম কি মাইগ্রেন নিরাময় করতে পারে?
মস্তিষ্কের রক্ত সংবহনক্ষম শিরাগুলো যখন সংকুচিত হয়ে যায় এবং মস্তিষ্কে যথাযথভাবে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়, তখনই মাইগ্রেন ব্যথার সৃষ্টি হয়। কোয়ান্টাম ব্যায়াম মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকে সচল করে। একইসাথে প্রাণায়াম ও শবাসন মাইগ্রেনের ব্যথাকে নিমিষে দূর করতে পারে। মাইগ্রেনের আরেকটি অন্যতম কারণ শরীরের ও মনের মাত্রাতিরিক্ত টেনশন এবং অস্থিরতা যা কোয়ান্টাম ব্যায়াম নিরাময় করতে পারে।
-
এনার্জি বৃদ্ধিতে এটা কতটা সহায়ক?
এনার্জি বৃদ্ধিতে কোয়ান্টাম ব্যায়াম অতুলনীয়। এই ব্যায়াম এমনভাবে পেশিগুলোকে সচল করে যে আপনি সবসময় থাকবেন প্রাণশক্তিতে ভরপুর। পাশ্চাত্যের ব্যায়ামের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো প্রচুর এনার্জি খরচ করা বা শরীরের ক্যালরি পুড়িয়ে ব্যায়াম করা। অন্যদিকে কোয়ান্টাম ব্যায়ামের একেকটি আসন শরীরে প্রচুর এনার্জি সঞ্চিত রাখে। ফলে যে ব্যক্তি কোয়ান্টাম ব্যায়াম করে সে ক্লান্তিহীনভাবে এবং পূর্ণ মনোযোগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করতে পারে। কর্মোদ্যমের সাথে সাথে মনোযোগও বাড়ায় চমৎকারভাবে।
কোয়ান্টাম ব্যায়াম ওরিয়েন্টেশন
ফাউন্ডেশনে কেন্দ্রসহ সারাদেশের সেন্টারে ২ দিনব্যাপী কোয়ান্টাম ব্যায়াম কম্প্যাক্ট ওরিয়েন্টেশনে যে-কেউ অংশ নিতে পারেন। ক্লাসে ব্যায়ামের সাধারণ প্রশিক্ষণ ছাড়াও দৈহিক অবস্থা ও প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে ব্যক্তিগত অনুশীলনের জন্যে প্রত্যেককে দেয়া হয় নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম। ওজন নিয়ন্ত্রণ বা বিশেষ কোনো রোগের জন্যে দেয়া হয় সুষম খাদ্যাভ্যাসের পরামর্শ। পুরুষ ও মহিলাদের জন্যে রয়েছে আলাদা ব্যবস্থা।
কোয়ান্টাম ব্যায়াম ওরিয়েন্টেশনে যা আছে
- দুদিনব্যাপী এ ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
- অংশগ্রহণকারীদের পরিচিতি পর্ব।
- আলোচ্য বিষয়সমূহ :
-
- সুস্বাস্থ্যের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি।
- সুস্থ দেহ, প্রশান্ত মন ও কর্মশক্তি সারাক্ষণ : কোয়ান্টাম ব্যায়াম।
- কোয়ান্টাম ব্যায়ামের নিয়মাবলী ও বিশেষত্ব
- মহাবিশ্বের মহাবিস্ময় : চার্টের মাধ্যমে মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও গ্ল্যান্ডের পরিচিতি এবং কার্যকারিতা বর্ণনা।
- আমাদের খাদ্যাভাস বৈজ্ঞানিক না-কি অবৈজ্ঞানিক (অসুস্থতা ও স্থূলতার কারণ: অবৈজ্ঞানিক খাদ্যাভাস)।
- মনের সৌন্দর্য চর্চা।
- সুস্থতা ও রোগ নিরাময়ে মেডিটেশনের ভূমিকা।
- কেন সৌন্দর্য চর্চা, সঠিক নিয়মে সৌন্দর্য চর্চা, (হাত মুখ পা ত্বক চুল)।
- ব্যায়াম প্রশিক্ষণ ও চূড়ান্ত আসন নির্বাচন।
- প্রশ্নোত্তর।
- ওজন উচ্চতা পরিমাপ
- চিকিৎসকদের কাউন্সেলিং
- অনুভূতি বর্ণনা।
- মেডিটেশন।
মাসিক ব্যায়ামের প্রোগ্রাম
শুরুর আগে :
- যুক্তিসঙ্গত প্রত্যাশা নিয়ে শুরু করুন
- নিয়মিত ব্যায়াম করুন
- ব্যায়ামের জন্য আরামদায়ক পরিবেশ
রাতারাতি কোনো পরিবর্তন প্রত্যাশা করবেন না। অবশ্য জীবনের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই এ ধরনের অলীক চাওয়া ক্ষতিকর। কোয়ান্টাম ব্যায়াম নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে ধীরে ধীরে একজন মানুষ অর্জন করতে পারে সুস্থতা এবং কাঙ্ক্ষিত শারীরিক গঠন। ব্যায়াম কোনো মেদ অপসারণের অস্ত্রপোচার নয়। বরং শরীরকে সবসময় কর্মক্ষম, নীরোগ এবং সুস্থতার ছন্দে ধরে রাখাই কোয়ান্টাম ব্যায়ামের উদ্দেশ্য।
অন্যান্য যন্ত্রনির্ভর ব্যায়ামের কিছু না কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকেই। কোয়ান্টাম ব্যায়ামের এরকম কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তবে শারীরিক মানসিক যে ক্ষেত্রেই একজন সুফল পেতে চায় তাকে এই প্রত্যাশার সাথে সাথে নিয়মিত চর্চা করার মানসিকতাও ধরে রাখতে হবে। প্রতিদিন ১৫ মিনিটের জন্যে হলেও দরকার কোয়ান্টাম ব্যায়াম চর্চা ।
ব্যায়াম চর্চায় আরামদায়ক পরিবেশ অন্যতম শর্ত। ব্যায়ামের সময় পোশাক অবশ্যই ঢিলেঢালা, আরামদায়ক হতে হবে। খুব শক্ত বা নরম জায়গায় ব্যায়াম করা উচিত নয়। আলো বাতাসপূর্ণ খোলা জায়গায় ব্যায়াম করা উচিত। ব্যায়াম করার সময় টয়লেটে যাবার প্রয়োজন হলে টয়লেট সেরে ব্যায়াম করা উচিত। কখনোই প্রশ্রাব পায়খানা চেপে রেখে ব্যায়াম করা উচিত নয়।
ব্যায়াম কখন করবেন :
কোয়ান্টাম ব্যায়াম যেকোনো সময়ই করা যায়। তবে এই সময়গুলোতে করা ভালো :
- সকাল
০৫:০০ - ১২:০০ - বিকেল
০৪:০০ - ০৭:০০ - সন্ধ্যার পরে
০৭:০০ - ০৯:০০

